মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের পতন? ইরানি হামলায় লণ্ডভণ্ড সামরিক ঘাঁটি
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে। গত এক মাসের যুদ্ধে ইরানের পাল্টা আক্রমণে অঞ্চলের অন্তত এক ডজন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাঁটিগুলো এখন আমেরিকার জন্য সুরক্ষার চেয়ে বরং বড় ‘বিপদ’ ও ‘বোঝা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান চিত্র:
অকেজো অবকাঠামো: নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ ঘাঁটি এখন প্রায় ‘বসবাসের অযোগ্য’। জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মার্ক লিঞ্চের মতে, ইরান মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমেরিকার আধিপত্যের মূল কাঠামোটি কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম ফ্লিটের সদরদপ্তর এখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সেখানে সেনাদের ফিরে আসা অনিশ্চিত।
নিরাপত্তা ছাতার ব্যর্থতা: কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ তৃতা পারসির মতে, এই বিশাল ঘাঁটিগুলো ইরানের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে, বরং উল্টো হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে মার্কিন ‘নিরাপত্তা ছাতা’র ওপর দীর্ঘদিনের বিশ্বাস ও নির্ভরতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন: এতদিন তেলের বিনিময়ে মার্কিন সুরক্ষা পাওয়ার যে সমীকরণ ছিল, তা এখন অকেজো। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, দেশগুলো এখন নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ইসরায়েলের মতো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে নতুন করে নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব গড়ার কথা ভাবছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনকৃত প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার ভবিষ্যৎ এবং ১৯টি ঘাঁটির অস্তিত্ব এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে। এই পরিবর্তন পুরো বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে বদলে দিতে পারে।