জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বাজার পরিস্থিতি: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর বিশেষ বিশ্লেষণ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপণ্যের বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (২৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জে ‘বহুমুখী পাটপণ্য মেলা ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো:
পরিবহন খরচ ও বাস্তবতা: মন্ত্রী একটি গাণিতিক উদাহরণ দিয়ে জানান, ২০০ কিলোমিটার পথে ১০ হাজার কেজি পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচ হবে মাত্র ৪৫০ টাকার মতো। অর্থাৎ প্রতি কেজি পণ্যে খরচ বাড়ে মাত্র ৪৫ পয়সা। তাই তেলের দামের দোহাই দিয়ে কেজিতে ৫-১০ টাকা দাম বাড়ানো অযৌক্তিক।
গুজব প্রতিরোধ: বাজারে অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে গুজব ও জল্পনা-কল্পনার কারণে দাম বাড়ে। তিনি গণমাধ্যমকে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার আহ্বান জানান।
রপ্তানি ও শিল্প খাত: বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রপ্তানিতে কিছুটা মন্দাভাব থাকলেও সরকার কম জ্বালানিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। এছাড়া গ্যাস সংকট কাটাতে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
পাট খাতের উন্নয়ন: পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকার ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নিয়েছে। কাঁচা পাটের বদলে প্রক্রিয়াজাত পাটপণ্য রপ্তানি করে অধিক বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী মনে করেন, ব্যবসায়ীরা যদি সততার সাথে ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং সাধারণ মানুষ গুজবে কান না দেন, তবে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে বড় কোনো সংকট তৈরি করবে না।