জ্বালানির সংকট নাকি আতঙ্ক? এশিয়ায় তেল নিতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগছে বাংলাদেশে

 


পাম্পে জ্বালানি তেলের জন্য হাহাকার; ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে চালকরা

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল নিতে আসা যানবাহনের লাইন এখন মাইলের পর মাইল ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি গাড়িকে তেল সংগ্রহ করতে ৬ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমনকি সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক চালক।

বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র: রাজধানীর ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনসহ প্রধান পাম্পগুলোতে তেলের জন্য হাহাকার চলছে। ১৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় রেশনিংয়ের কারণে চাহিদামতো তেল পাওয়া যাচ্ছে না; কার বা প্রাইভেট কারের জন্য মাত্র ১৫ লিটার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এশিয়ায় বর্তমানে বাংলাদেশেই তেল নিতে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদের অবস্থাও শোচনীয়; তেলের অভাবে অনেককে মাইলের পর মাইল বাইক ঠেলে পাম্পে নিতে দেখা যাচ্ছে।

সংকট নাকি আতঙ্ক? জ্বালানি বিভাগের দাবি, দেশে অকটেন ও পেট্রোলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই এবং আগামী ৩ মাসের মজুত রয়েছে। পেট্রোলের পুরোটাই দেশে উৎপাদিত হয় এবং অকটেনেরও বড় অংশ অভ্যন্তরীণভাবে তৈরি হচ্ছে। মূলত 'প্যানিক বাইং' বা আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং অবৈধ মজুতদারির কারণেই পাম্পগুলোতে এই অস্বাভাবিক ভিড় তৈরি হয়েছে। তবে পাম্প মালিকরা বলছেন, ৪৫ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে তাঁরা এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর দেখেননি। এই দীর্ঘ লাইন পাম্পগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post