ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা, অথচ ঘরের ভেতর জ্বলছে আগুন! বেলুচিস্তানের সংকটে পাকিস্তান

 


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের আঁচে জ্বলছে বেলুচিস্তান; পাকিস্তানের জন্য নতুন এক অগ্নিপরীক্ষা

বর্তমান বিশ্বের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। গুঞ্জন রয়েছে, বৈরী এই দুই শক্তির ঐতিহাসিক আলোচনা হতে পারে ইসলামাবাদে। কিন্তু এই কূটনৈতিক সাফল্যের আড়ালে পাকিস্তানের নিজস্ব ভূখণ্ড বেলুচিস্তান এক ভয়াবহ অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি আছড়ে পড়ছে ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাক-ইরান সীমান্তজুড়ে।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও সাম্প্রদায়িক বিষ: নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেলুচিস্তানে সীমান্ত অতিক্রমী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বহুগুণ বেড়েছে। একদিকে বালুচ লিবারেশন আর্মি (BLA) চীনা বিনিয়োগকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, অন্যদিকে আইএস (খোরসান) ও টিটিপি-র মতো সুন্নি গোষ্ঠীগুলো শিয়া হাজারা সম্প্রদায়ের ওপর চড়াও হচ্ছে। এর বিপরীতে ইরানি মদদপুষ্ট শিয়া গোষ্ঠী ‘লিওয়া জাইনাবিয়ুন’-এর সক্রিয়তা পাকিস্তানে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

মানবিক সংকট ও সামরিকায়ন: আফগান সীমান্তে উত্তেজনা এবং ভারতের সাথে চিরশত্রুতার মাঝে পাকিস্তান সেনাবাহিনী এখন বেলুচিস্তানে কঠোর নজরদারি ও সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। তবে বালুচ নেতাদের মতে, এই অতিরিক্ত সামরিকায়ন সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে। গত এক দশকে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে চরম রাষ্ট্রবিরোধী অসন্তোষ বিরাজ করছে। ইসলামাবাদ যখন বিশ্বমঞ্চে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়ে সাধুবাদ কুড়াচ্ছে, তখন তাদের নিজেদের ঘর অর্থাৎ বেলুচিস্তান জ্বলছে অস্থিরতার আগুনে। এই অভ্যন্তরীণ বিবাদ মেটাতে না পারলে পাকিস্তানের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

Post a Comment

Previous Post Next Post