গাইবান্ধায় জ্বালানি সংকটে চরম ভোগান্তি: পাম্পে তেলের হাহাকার ও সরবরাহ সীমিত
গাইবান্ধা জেলা শহরে বর্তমানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে আসায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন হাহাকার চলছে। সরবরাহ না থাকায় জেলা শহরের 'মেসার্স হাসনা এন্ড সন্স' ফিলিং স্টেশনটি গত দুদিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য সচল পাম্পগুলোতেও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যানবাহন চালক।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের তদারকিতে সীমিত পরিসরে জ্বালানি বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার পেট্রোল বা অকটেন এবং প্রাইভেটকারে মাত্র ১০ লিটার অকটেন দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাস ও ট্রাকের ক্ষেত্রেও তেলের নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও অনেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৭ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৩২ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও তারা সরবরাহ পাচ্ছেন চাহিদার অর্ধেকেরও কম। অগ্রিম টাকা জমা দিয়েও ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় তেল মিলছে না বলে তাদের দাবি। এই সংকটকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের সাথে পাম্প কর্মচারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত তর্কাতর্কি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটছে। দ্রুত এই সংকট নিরসন করা না গেলে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা অবিলম্বে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন।