ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্রে ইরানের ভয়াবহ হামলা! মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন সমীকরণ

 



ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা; তুঙ্গে উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে ইসরায়েলের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ডেড সির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত ইসরায়েলের পারমাণবিক সংশ্লিষ্ট শিল্প কেন্দ্র এবং সামরিক কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। একে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযানের ‘৮২তম ধাপ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান।

কূটনৈতিক রশি টানাটানি: রণাঙ্গনে হামলার তীব্রতা বাড়লেও পর্দার আড়ালে কূটনীতি নিয়ে চলছে ধোঁয়াশা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরান একটি শান্তি চুক্তির জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে গোপনে আলোচনা করছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছেন, তারা কেবল মার্কিন প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছেন। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চললেও ওয়াশিংটনের সাথে কোনো সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা ইরানের নেই।

প্রেক্ষাপট ও মধ্যস্থতা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি ইরানের নেতৃত্বে রয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে এবং আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ওপর হামলা না চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে। একদিকে ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনায় হামলা এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের আলোচনার দাবি—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post