৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম থেকে ট্রাম্পের পিছুটান; মধ্যপ্রাচ্যে কি শান্তির সুবাতাস বইবে?

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: আলোচনা নাকি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের পথে মধ্যপ্রাচ্য?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে যে ইরানের সামরিক শক্তি পঙ্গু হয়ে গেছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে ইরানের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং ইসরায়েলের পরমাণু কেন্দ্র সংলগ্ন ডিমোনা শহরে হামলা প্রমাণ করে যে, তেহরানের কমান্ড কাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। ৩,৮০০ কিলোমিটার দূরত্বের এই আক্রমণ সক্ষমতা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হিসাবকেও পাল্টে দিয়েছে।

নেতৃত্বের ধোঁয়াশা ও সামরিক সক্ষমতা: ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন নেতা ঘোষিত হলেও তিনি এখনো জনসমক্ষে আসেননি। এই নেতৃত্বের সংকট সত্ত্বেও ইরানের সামরিক বাহিনী ও আইআরজিসি (IRGC) অত্যন্ত সমন্বিতভাবে পাল্টা আঘাত হানছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে তিনি আকস্মিক পিছু হটেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সাথে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে এবং তিনি ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করেছেন।

সংকীর্ণ হচ্ছে বিকল্পের পথ: বিগত কয়েকমাস ধরে আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোয় ইরানের ভেতরে এক গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। তেহরান এখন মনে করে, আলোচনা মানেই হামলা হওয়ার ঝুঁকি। বর্তমানে উভয় পক্ষই এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখান থেকে কারো পক্ষেই সহজে পিছিয়ে আসা সম্ভব নয়। যেহেতু স্থলপথে কোনো বড় সৈন্যবাহিনী নেই, তাই কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে ইরানকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কঠিন। ফলে সমাধানের পথ ক্রমেই সরু হয়ে আসছে এবং মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post