এফ-৩৫বি এবং মেরিন সেনাদের রণপ্রস্তুতি; ইরানের দুর্গম পাহাড়ে কতটুকু সফল হবে যুক্তরাষ্ট্র?

 


পারস্য উপসাগরে মার্কিন সমরশয্যা: ইরান কি পেন্টাগনের নতুন ‘মৃত্যু উপত্যকা’?

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক তৎপরতা এক ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সান ডিয়েগো এবং জাপানের ওকিনাওয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী দুটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (MEU) এখন ইরানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি (F-35B) যুদ্ধবিমান, আধুনিক হেলিকপ্টার এবং শক্তিশালী মিসাইলে সজ্জিত এই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য সম্ভবত ইরানের তেল-গ্যাস রপ্তানির প্রাণকেন্দ্র খারাগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

বিশাল সৈন্য সমাবেশ ও কৌশলগত ঝুঁকি: পেন্টাগন কেবল মেরিনদের নয়, বরং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন ও রেঞ্জার ব্যাটালিয়নসহ প্রায় ৭০ হাজার সৈন্য সেখানে মোতায়েন করছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিশাল ভৌগোলিক আয়তন, রুক্ষ পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি এবং লক্ষ লক্ষ নিয়মিত-অনিয়মিত সেনার বিপরীতে এই ৭০ হাজার সৈন্য নেহাতই সামান্য। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র থাকলেও ইরানের দুর্গম ভূখণ্ডে মার্কিন সেনাদের জন্য এই অভিযান চরম আত্মঘাতী হতে পারে।

অতীতের শিক্ষা ও বর্তমান শঙ্কা: ১৯৭৫ সালে কম্বোডিয়ার কোহ টাঙ্গ দ্বীপে ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো অভিযানে মার্কিন মেরিনদের যে করুণ পরিণতি হয়েছিল, ইরানের উপকূলে তেমন কোনো ‘ট্র্যাজেডি’র পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল সম্ভাবনা দেখছেন সমরবিশারদরা। ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের ‘রক্তপিপাসু’ বক্তব্য এবং ইরানের প্রতিরোধ সংকল্পকে ছোট করে দেখার প্রবণতা মার্কিন সেনাদের এক অনিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারে। কবির ভাষায়—সৈনিকের কাজ যুক্তি দেওয়া নয়, আদেশ মেনে লড়াই করা; কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তের বলি হয়ে তারা যেন কোনো ‘মৃত্যু উপত্যকায়’ হারিয়ে না যায়, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Post a Comment

Previous Post Next Post