ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সৌদি আরবের চরম বার্তা: ২৪ ঘণ্টায় সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ
ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ এক নাটকীয় ও জটিল মোড় নিয়েছে। দক্ষিণ ইয়েমেনের বন্দরনগরী মুকাল্লায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার পর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (UAE) সামরিক বাহিনীকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমির এই কঠোর নির্দেশকে প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়েছে রিয়াদ, যা দুই প্রভাবশালী প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নজিরবিহীন টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে।
দ্বন্দ্বের মূল কারণ ও সামরিক অভিযান: সৌদি আরবের অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী 'সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল' (STC)-কে অবৈধভাবে অস্ত্র ও যুদ্ধযান সরবরাহ করে অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা উসকে দিচ্ছে। গত শনিবার ও রবিবার আমিরাতের ফুজাইরা বন্দর থেকে আসা দুটি জাহাজ মুকাল্লা বন্দরে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র খালাস করার সময় সৌদি জোট সেখানে বিমান হামলা চালায়। ইয়েমেনি সরকার আমিরাতের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেছে এবং দেশজুড়ে ৭২ ঘণ্টার সর্বাত্মক অবরোধ ঘোষণা করেছে।
আঞ্চলিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব: সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয়ই ওপেক (OPEC) ভুক্ত বড় তেল উৎপাদনকারী দেশ। তাদের এই কূটনৈতিক সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের উৎপাদন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং এরই মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। অন্যদিকে, এসটিসি (STC) এই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে আমিরাতকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই বিভক্তি হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইকে দুর্বল করার পাশাপাশি ইয়েমেনে একটি নতুন যুদ্ধের ফ্রন্ট খুলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।