সৌদি আরবে ইরানি হামলা; যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ বিমান বিধ্বস্ত
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত বিরল এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন একটি ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এই হামলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি ১২ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।
ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের গুরুত্ব: এই বিমানটি মূলত একটি উড়ন্ত রাডার স্টেশন বা AWACS (Airborne Warning and Control System) হিসেবে পরিচিত। এটি শত শত কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুদেশের বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম এবং সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি কমান্ডারদের কাছে পৌঁছে দেয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৬টি কার্যকর ই-৩ সেন্ট্রি বিমান অবশিষ্ট ছিল, যার একটি হারানো মার্কিন বিমান বাহিনীর জন্য এক বিশাল কৌশলগত বিপর্যয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও বিকল্পের সংকট: হামলায় কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই বিরল বিমানের কোনো সহজ বিকল্প বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে ‘বোয়িং ই-৭ ওয়েডগেটেইল’-এর কথা ভাবা হলেও, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে শুক্রবারের এই আকস্মিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক আধিপত্য এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে আবারও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।