মোজতবা খামেনি কি গুরুতর আহত? ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি দাবি
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে বৈশ্বিক রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়ায় তার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তিনি সম্ভবত রাষ্ট্র পরিচালনায় অক্ষম হয়ে পড়েছেন। হেগসেথের মতে, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর মোজতবা কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা না দিয়ে কেবল লিখিত বিবৃতি দেওয়াতেই প্রমাণিত হয় যে তিনি আত্মগোপনে আছেন এবং শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত।
অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে মোজতবা খামেনির আহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হলেও তাকে 'অক্ষম' বলার দাবিটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। জাপানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত পেইমান সাদাত জানিয়েছেন, হামলায় মোজতবা খামেনি সামান্য আঘাত পেয়েছেন ঠিকই, তবে তিনি পুরোপুরি সচল এবং কার্যকরভাবেই দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, গুরুতর কোনো শারীরিক সমস্যা না থাকায় এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই তাকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ওই হামলায় মোজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও পরিবারের অনেক সদস্য নিহত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার তিনি প্রথম লিখিত বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা এবং প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে মার্কিন ঘাঁটি সরানোর কড়া হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র গত ১৪ দিনে ইরানের প্রায় ৬ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই যুদ্ধে ইরানের সামরিক ও নৌ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের দয়া বা ছাড় (নো কোয়ার্টার) দেখাবেন না।