যুদ্ধ বনাম পর্যটন: কেন কেশম দ্বীপ এখন মার্কিন মেরিনদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু?

 

কেশম দ্বীপ: প্রাকৃতিক বিস্ময়ের আড়ালে ইরানের এক ‘অডুবনীয় রণতরী’

হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অবস্থিত কেশম দ্বীপ বর্তমানে বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দু। একসময় যা পর্যটকদের কাছে পান্না-সবুজ ম্যানগ্রোভ আর অদ্ভুত শিলাগঠনের জন্য ‘প্রাকৃতিক জাদুঘর’ হিসেবে পরিচিত ছিল, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা এখন ইরানের এক অভেদ্য সামরিক দুর্গে পরিণত হয়েছে। ১,৪৪৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপটি মূলত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথের ‘কর্ক’ হিসেবে কাজ করে।

ক্ষেপণাস্ত্র নগরী ও সামরিক কৌশল: বিশ্লেষকরা কেশম দ্বীপকে ইরানের ‘অডুবনীয় বিমানবাহী রণতরী’ বলে অভিহিত করেন। দ্বীপটির জটিল ভূগর্ভস্থ গোলকধাঁধায় লুকিয়ে আছে ইরানের বিশাল ‘ক্ষেপণাস্ত্র নগরী’। এখানে সংরক্ষিত আছে দ্রুতগতিতে আক্রমণ করতে সক্ষম ইরানি নৌযান এবং শক্তিশালী উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সামরিক বিশ্লেষক হাসান জৌনির মতে, এই ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কের প্রধান লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা বা বন্ধ করে দেওয়া। সম্প্রতি ইরান এই পথ দিয়ে নৌ চলাচল সীমিত করে তাদের সেই সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

ইতিহাস ও প্রকৃতির মেলবন্ধন: সামরিক নজরদারি টাওয়ার আর আইআরজিসির মিসাইল সিলোর নিচেই রয়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত জিওপার্ক। এখানে বিশ্বের দীর্ঘতম লবণগুহা ‘নামাকদান’ এবং বিস্ময়কর ‘ভ্যালি অব স্টারস’ অবস্থিত। পর্তুগিজ ও ব্রিটিশদের মতো অতীতের সাম্রাজ্যগুলো বিলীন হলেও কেশমের কৌশলগত গুরুত্ব এখনো অম্লান। বর্তমানে মার্কিন মেরিনদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হওয়া সত্ত্বেও, এই দ্বীপটি তার প্রাচীন ইতিহাস আর অনন্য ‘বান্দারি’ সংস্কৃতি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এক রহস্যময় ভূ-রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post