কাতারের পর জর্ডানেও মার্কিন রাডার ধ্বংস; বড় ধরনের প্রতিরক্ষা ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর একের পর এক শক্তিশালী আঘাত হানছে ইরান। কাতারের পর এবার জর্ডানেও আমেরিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দামী একটি 'থাড' (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার ধ্বংস করেছে তেহরান। স্যাটেলাইট চিত্রে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ও গুরুত্ব: বার্তা সংস্থা ব্লুমবার্গ ও সিএনএন-এর তথ্যমতে, ধ্বংস হওয়া এই AN/TPY-2 রাডারটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ কোটি ডলার (৩০০ মিলিয়ন ডলার)। মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরো বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাত্র ৮টি ‘থাড’ ব্যাটারি রয়েছে এবং অতিরিক্ত কোনো রাডার বর্তমানে তাদের হাতে নেই। ফলে এই একটি রাডার হারানো ওয়াশিংটনের জন্য এক বিশাল কৌশলগত ধাক্কা। প্রতিটি ‘থাড’ ব্যাটারিতে প্রায় ৯০ জন সেনা এবং ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র থাকে, যার প্রতিটির দাম ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ধস: এর আগে কাতারের আল উদেদ সামরিক ঘাঁটিতেও একই ধরনের একটি অত্যাধুনিক রাডার ধ্বংস করেছিল ইরান। আইআরজিসি (IRGC) এই ধ্বংসযজ্ঞের উপগ্রহ ছবি প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, এই রাডারগুলো একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অংশ ছিল। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, একের পর এক রাডার ধ্বংস হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াবে।