আলী লারিজানির মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরান: মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা
ইরানের প্রভাবশালী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার আলী লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং ইরান ইন্টারন্যাশনালসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এই খবর নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) লারিজানির অবস্থান লক্ষ্য করে একটি সুনির্দিষ্ট ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালায়, যা এখন সফল বলে প্রমাণিত হলো।
আলী লারিজানি ছিলেন ইরানের রাজনীতির অন্যতম প্রধান কারিগর এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান আলোচক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম। বিশেষ করে ২০১৫ সালে বিশ্বের ছয়টি শক্তিধর দেশের সঙ্গে ইরানের ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদনে লারিজানিই মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই হত্যাকাণ্ডকে একটি 'কৌশলগত সাফল্য' হিসেবে অভিহিত করেছেন। খামেনির পর লারিজানির মতো উচ্চপর্যায়ের নেতার মৃত্যুতে ইরান এখন চরম সংকটের মুখে। লারিজানির জানাজা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কোনো পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।