পুতিনের নওরোজ শুভেচ্ছা: ইরানের প্রতি অকৃত্রিম বন্ধুত্ব নাকি নিছক স্বার্থের খেলা?
ইরানি নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও ক্রেমলিন এই বার্তাকে ‘একনিষ্ঠ বন্ধুত্বের’ নিদর্শন হিসেবে দাবি করছে, বিশ্লেষকদের মতে এটি গভীর কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির চেয়ে বরং একটি কৌশলী শিষ্টাচার মাত্র।
মস্কোর স্বার্থ ও জোটের সীমাবদ্ধতা: তেহরান ও মস্কোর মধ্যে তথাকথিত ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আড়ালে কোনো কার্যকর প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। ইতিহাস বলছে, রাশিয়া কখনোই তার মিত্রদের জন্য নিজের স্বার্থ বিসর্জন দেয় না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরান এখন যে ভয়াবহ সংকটে রয়েছে, সেখানে মস্কোর কাছ থেকে দৃশ্যমান কোনো সামরিক সহায়তা মেলেনি। বরং গোয়েন্দা তথ্যের বিনিময়ে ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দরকষাকষির চেষ্টার খবর রাশিয়ার মিত্রতার প্রকৃত চরিত্রটিই উন্মোচিত করেছে।
ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান বাস্তবতা: সাদ্দাম হোসেন কিংবা বাশার আল আসাদের পরিণতি প্রমাণ করে যে, মস্কো তার মিত্রদের কেবল আয়ের উৎস বা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। সিরিয়ার আসাদ এখন কার্যত রাশিয়ার রাজনৈতিক শরণার্থী। ঠিক একইভাবে, পুতিনের এই নওরোজ শুভেচ্ছা ইরানকে কোনো বড় ধরনের সামরিক হামলা থেকে সুরক্ষা দেবে না। রাশিয়ার কাছে ইরান বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বের সাথে দরকষাকষির একটি ‘ঘুঁটি’ মাত্র। স্বার্থে আঘাত লাগলে এই সম্পর্ক যেকোনো সময় শিথিল হয়ে যেতে পারে। তাই যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে তেহরান ভালোভাবেই জানে যে, শেষ পর্যন্ত নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হবে।