ডিমোনায় সরাসরি আঘাত! ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে কি তবে অকেজো ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা?

 


ইসরায়েলের আকাশ কি সত্যিই অরক্ষিত? ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় টলে গেছে আত্মবিশ্বাস

ইসরায়েলের গর্বের ও অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কি তবে ব্যর্থ হতে শুরু করেছে? গত শনিবার রাতে দক্ষিণ ইসরায়েলের আরাদ ও ডিমোনার আবাসিক এলাকায় ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। এই হামলায় ১১৫ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। ইসরায়েলি নাগরিকদের দীর্ঘদিনের যে অগাধ আস্থা ছিল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর, তা এখন অনেকটাই ম্লান।

প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ব্যর্থতা ও উদ্বেগ: সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনা সমৃদ্ধ ডিমোনা শহরকে ঘিরে। সুরক্ষিত এই এলাকায় ইরান কীভাবে রকেট প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলো, তার কোনো সদুত্তর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দেয়নি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের কাছে পর্যাপ্ত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি দেখা দিয়েছে অথবা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কায় তারা এই ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সাশ্রয় করার চেষ্টা করছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, সুরক্ষিত ডিমোনায় ক্ষেপণাস্ত্র রুখতে না পারা প্রমাণ করে যে "ইসরায়েলের আকাশ এখন অরক্ষিত।"

ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র মজুত: ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত জুন মাসে অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত অনেকটা কমে গেলেও তারা অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তা আবারও সচল করেছে। বর্তমানে ইরানের কাছে অন্তত ২ হাজার ৫০০ প্রস্তুত ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইসরায়েলের একজন সাবেক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, তাদের বর্তমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পক্ষে ৩ থেকে ৫ হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের একযোগে আঘাত সহ্য করা সম্ভব নয়। এই সামরিক সীমাবদ্ধতার কারণেই ইসরায়েল এখন মরিয়া হয়ে ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post