ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের নতুন সমীকরণ: ‘হাসিনা-অধ্যায়’ কাটিয়ে ইতিবাচক পথে দুই দেশ
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর ও সফল সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। গত দেড় বছরের কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ শেষে বর্তমান অবস্থাকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে— ‘সো ফার সো গুড’ বা এখন পর্যন্ত সব ঠিকঠাক আছে।
নয়াদিল্লি ও ঢাকা— উভয় পক্ষই এখন অত্যন্ত সতর্ক এবং ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সামনে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক বা সরকারি কোনো পর্যায় থেকেই এমন কোনো বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়নি যা সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে। ভারতের বর্তমান আচরণ থেকে এটি স্পষ্ট যে, তারা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের দাবি হয়তো মানবে না, তবে এর জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়নকে তারা বাধাগ্রস্ত হতে দিতেও রাজি নয়। ভারত বোঝাতে চাইছে যে, ‘হাসিনা-অধ্যায়’ এখন অতীত এবং তারা বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী ও গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।
দুই দেশের ভবিষ্যৎ এখন পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। রাজনৈতিক জটিলতা সরিয়ে রেখে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা ও দিল্লি— উভয়ই একে অপরের গুরুত্ব অনুভব করছে। কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং দুই দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আগামী দিনের কূটনৈতিক পথচলা নির্ধারিত হচ্ছে।