ইসরায়েলি হামলার কঠিন জবাব দেওয়ার ঘোষণা তেহরানের; দায় নিতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকেও
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। শুক্রবার (২৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর জন্য ইসরায়েলের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকেও সরাসরি দায়ী করেন।
হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও তেহরানের অভিযোগ: আরাগচির দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দুটি বিশাল ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বেসামরিক পারমাণবিক গবেষণাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই অভিযান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে, যা কূটনৈতিক সমাধানের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্ধারিত সময়সীমারও পরিপন্থী। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিহতের পর থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই বিধ্বংসী সংঘাত শুরু হয়।
পাল্টা হামলার প্রস্তুতি: ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যেই এই হামলার ‘কঠিন জবাব’ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তারা দখলকৃত অঞ্চল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের পরিণতি হবে ভয়াবহ। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরানজুড়ে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এখন চরম সীমায় পৌঁছেছে।