ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউরোপের নিরাপত্তা: নতুন এক বৈশ্বিক উদ্বেগ
ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। যদিও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ব্যর্থ হয়েছে, তবে ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দূরের এই আক্রমণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর দাবি অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র এখন অনায়াসেই বার্লিন, প্যারিস বা রোমের মতো ইউরোপীয় রাজধানীগুলোতে পৌঁছাতে সক্ষম।
পাল্লা বাড়ছে কি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের? এতদিন ধারণা করা হতো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ সীমা ২ হাজার কিলোমিটার, যা কেবল ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য ঝুঁকি ছিল। কিন্তু দিয়েগো গার্সিয়া অভিমুখে এই হামলা প্রমাণ করে যে, তেহরান তাদের স্ব-আরোপিত সীমানা পেরিয়ে গেছে। আইডিএফের চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির সতর্ক করেছেন যে, ইরান এখন ৪ হাজার কিলোমিটার পাল্লার আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরিতে সফল হয়েছে। কিছু প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, ইরান যদি এই প্রযুক্তি পুরোপুরি আয়ত্ত করে, তবে ভবিষ্যতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র আমেরিকা মহাদেশেও পৌঁছাতে পারে।
মনস্তাত্ত্বিক লড়াই না কি প্রকৃত হুমকি? যুক্তরাজ্যের মতো কিছু দেশ অবশ্য এখনই লন্ডন বা প্যারিসের ওপর সরাসরি হামলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই বলে দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান হয়তো এখনই ইউরোপে হামলা করবে না, তবে এই দূরপাল্লার পরীক্ষাটি ছিল মূলত একটি মনস্তাত্ত্বিক সতর্কবার্তা। অন্যদিকে, ইসরায়েল এই ইস্যুটিকে সামনে এনে ইউরোপীয় দেশগুলোকেও এই যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ওয়াশিংটনের দেওয়া সামরিক তথ্য ও প্রকৃত পরিস্থিতির সত্যতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সংশয় দেখা দিচ্ছে।