মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি ইরানের: ট্রাম্পের আল্টিমেটামের কড়া জবাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামের বিপরীতে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। রোববার (২২ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কোনো হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানি শোধনাগার (ডিস্যালিনেশন) অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে। ইরান এই স্থাপনাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সংঘাতের মূল কারণ ও প্রভাব: ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। এর জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ জানিয়েছে, হামলা হলে হরমুজ প্রণালী স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত তা আর খোলা হবে না।
বর্তমানে এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং ইউরোপে গ্যাসের দাম গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোকে সীমিতভাবে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তবে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে যে, পানি ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক সেবা প্রদানকারী অবকাঠামোতে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই পাল্টাপাল্টি হুমকি পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়েছে।