রাশিয়ার অভিজ্ঞতায় শক্তিশালী ইরান; ড্রোনের নতুন ‘কিল জোন’ নিয়ে চিন্তায় পেন্টাগন

 

ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের ‘ড্রোন বিপ্লব’ ও নতুন চ্যালেঞ্জ

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ থেকে প্রাপ্ত সামরিক শিক্ষা এখন মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছে ইরান। সম্প্রতি ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে ফাইবার অপটিক তার নিয়ন্ত্রিত এফপিভি (FPV) ড্রোনের সফল হামলা এই নতুন বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিশেষ প্রযুক্তির ড্রোনগুলোকে প্রচলিত ইলেকট্রনিক জ্যামিং ব্যবস্থার মাধ্যমে অকার্যকর করা অসম্ভব, যা মার্কিন ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার ও রাডার ব্যবস্থাকে অনায়াসেই ধ্বংস করতে সক্ষম।

রণকৌশলে আমূল পরিবর্তন: সাবেক সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরাক বা আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী যে ধরনের আইইডি (IED) বা ছোট অস্ত্রের মোকাবিলা করেছিল, ইরানের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধে পরিস্থিতি হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাশিয়ার কাছ থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতায় ইরান এখন ড্রোন-নিয়ন্ত্রিত এক ‘মৃত্যুপুরী’ বা কিল জোন তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো সংকীর্ণ জলপথে ইরানের সামুদ্রিক ও আকাশপথের ড্রোনগুলো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও ল্যান্ডিং ক্র্যাফটগুলোর জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

প্রস্তুতির অভাব ও ঔদ্ধত্য: বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো এখনো এই নতুন ড্রোন যুদ্ধ কৌশলের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করলেও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউক্রেনীয়রা যে উন্নত প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় পৌঁছেছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো সেই প্রাথমিক ধাপেই রয়ে গেছে। রাশিয়ার মতো ‘যোগ্য শিক্ষক’ থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান এখন এমন এক প্রযুক্তিতে বলীয়ান, যা মোকাবিলায় পশ্চিমা সামরিক বাহিনী মানসিকভাবে বা প্রযুক্তিগতভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।রাশিয়ার অভিজ্ঞতায় শক্তিশালী ইরান; ড্রোনের নতুন ‘কিল জোন’ নিয়ে চিন্তায় পেন্টাগন

Post a Comment

Previous Post Next Post