ইরান আমাকে ‘সর্বোচ্চ নেতা’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল: ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচিত্র দাবি
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। ওয়াশিংটনে রিপাবলিকান পার্টির এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ইরানের নেতৃত্ব নাকি তাকে দেশটির পরবর্তী ‘সর্বোচ্চ নেতা’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাব বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেন।
দাবির প্রেক্ষাপট ও ইরানের বর্তমান অবস্থা: গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তেহরানে এক বিশাল ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, এই সংকটময় মুহূর্তে ইরানি নেতৃত্ব অনানুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই পদের প্রস্তাব দেয়। যদিও বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে, তবুও ট্রাম্প দাবি করছেন যে ইরান পর্দার আড়ালে একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে। তার মতে, ইরানি নেতারা জনরোষ এবং মার্কিন হামলার ভয়ে এই আলোচনার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে ভয় পাচ্ছেন।
তেহরানের অনড় অবস্থান: ট্রাম্পের এই বিচিত্র দাবি এবং শান্তি আলোচনার বিষয়টিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, যুদ্ধ বন্ধের জন্য তাদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না হওয়ার গ্যারান্টি, যুদ্ধের বিশাল ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একচ্ছত্র সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি। ক্রমাগত বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরান পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না, যা সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।