ইসরায়েলি হামলায় সপরিবারে প্রাণ হারালেন ইরানের নিরাপত্তা প্রধান; উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য

 

লারিজানি হত্যাকাণ্ড ও মোজতবা খামেনির অনড় অবস্থান: সমঝোতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল ইরান

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করেছে তেহরান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, সোমবার রাতের ওই ভয়াবহ হামলায় লারিজানির পাশাপাশি তাঁর ছেলে এবং ডেপুটি আলিরেজা বায়াতও প্রাণ হারিয়েছেন। লারিজানি ছিলেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগী এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান কারিগর। তাঁর মৃত্যু ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের তিন সপ্তাহের মাথায় তেহরানের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। নিজের প্রথম পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির কোনো সুযোগ নেই। খামেনির ভাষ্যমতে, "যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে নতজানু করা হচ্ছে, তারা পরাজয় স্বীকার করছে এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে, ততক্ষণ শান্তির কথা ভাবা হবে না।"

এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সাহায্য চেয়ে ব্যর্থ হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে এখনো জনসম্মুখে বা গণমাধ্যমে দেখা না যাওয়ায় তাঁর বর্তমান অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে তেহরানের এই অনড় অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত অদূর ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

Post a Comment

Previous Post Next Post