চার হাজার কিমি পাল্লার মিসাইল হামলা; তবে কি আইসিবিএম যুগে প্রবেশ করল ইরান?

 

চার হাজার কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কি ইরানের হাতে? আন্তঃমহাদেশীয় শক্তির পথে তেহরান

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরে অবস্থিত মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি ইরান আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) তৈরির দ্বারপ্রান্তে?

ইরান থেকে দিয়েগো গার্সিয়ার দূরত্ব প্রায় চার হাজার কিলোমিটার। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে হলে আইসিবিএম প্রযুক্তির প্রয়োজন, যা কেবল হাতেগোনা কয়েকটি পরাশক্তির কাছে রয়েছে। যদিও প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা আড়াই হাজার কিলোমিটারের আশেপাশে (যেমন: কদর, এমাদ বা সিজ্জিল), কিন্তু চার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর এই চেষ্টা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

দিয়েগো গার্সিয়াতে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত হয় এবং অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ছিল ইরানের দূরপাল্লার সক্ষমতা যাচাইয়ের একটি গোপন পরীক্ষা। যদি ইরান সফলভাবে এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করে ফেলে, তবে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিশাল অংশ জুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো সরাসরি তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালে চলে আসবে। যদিও ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এই ব্যয়বহুল প্রযুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল রাখার পথে বড় বাধা, তবুও এই নতুন রেঞ্জ বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post