Gemini said
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত কি পারমাণবিক যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে? বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বনেতাদের বিশ্লেষণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ কি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞে রূপ নেবে? এই প্রশ্নটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে। হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তা ডেভিড স্যাকসের সাম্প্রতিক এক সতর্কবার্তা এই উদ্বেগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, চরম সংকটে পড়লে ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবতে পারে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন, তবুও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ও বর্তমান পরিস্থিতি: শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন মিয়ারশেইমার এবং এমআইটির থিওডোর পোস্টল মনে করেন, যদি ইসরায়েল প্রথাগত যুদ্ধে ইরানকে দমাতে ব্যর্থ হয় অথবা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনো বিকল্প খুঁজে না পান, তবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি থেকে যায়। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা আঘাত হানতে তড়িঘড়ি করে নিজস্ব ডিভাইস তৈরির চেষ্টা করতে পারে। এমন এক ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সম্ভাব্য পারমাণবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে।
যুদ্ধের চার সপ্তাহ ও অটুট প্রতিরোধ: যুদ্ধ শুরুর চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইরানের প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনো শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং শীর্ষ নেতা নিহত হলেও ইরানের ড্রোন ও ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা থামেনি। এছাড়া বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালিতে এখনো ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
কেন পারমাণবিক হামলা কঠিন: আর্মস কন্ট্রোল অ্যাসোসিয়েশনের ড্যারিল কিমবল সতর্ক করেছেন যে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর হাতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রায় অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা রয়েছে। তবে রিচার্ড গোয়ানের মতো বিশ্লেষকরা মনে করেন, পারমাণবিক হামলা কোনো সমাধান নয়; বরং এটি আরব বিশ্বসহ পুরো পৃথিবীকে ক্ষিপ্ত করে তুলবে এবং রাশিয়া বা চীনের জন্য ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পথ খুলে দেবে। ট্রাম্প নিজেও পারমাণবিক যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে সচেতন, যা এই পথে হাঁটার ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে।