১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে তেলের দাম; ইরান যুদ্ধের প্রভাবে চরম সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি

 

ট্রাম্পকে বন্ধুর কড়া প্রশ্ন: ‘ইরান যুদ্ধে আমাদের জড়ানোর অনুমতি আপনাকে কে দিল?’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বন্ধু খালাফ আহমদ আল-হাবতুর ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক খোলা চিঠিতে তিনি ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করেছেন—উপসাগরীয় অঞ্চলকে এই যুদ্ধে জড়ানোর অনুমতি তাকে কে দিয়েছে? হাবতুরের মতে, ইসরায়েলের সঙ্গে আঁতাত করে হুট করে নেওয়া এই যুদ্ধ সিদ্ধান্তের কারণে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন ধ্বংসের মুখে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই যুদ্ধ কি ট্রাম্পের নিজস্ব প্রজ্ঞার ফসল নাকি নেতানিয়াহু সরকারের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত?

এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এক চরম অস্থিরতার মুখে পড়েছে। যুদ্ধের মূল প্রভাবগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

  • জ্বালানি সংকট: বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহকারী ‘হরমুজ প্রণালি’ বর্তমানে কার্যত বন্ধ। কাতার ও সৌদি আরব ইতিমধ্যে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছাড়ানোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • বিনিয়োগে টানাপোড়েন: সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ চুক্তি পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে।

  • বৈশ্বিক মন্দা: ১৯৭৩ সালের মতো বিশ্ব আবারও ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা মন্দাস্ফীতির দিকে এগোচ্ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে চীন, ভারত ও জাপানের মতো দেশগুলোর উৎপাদন ও কৃষি খাত মুখ থুবড়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দারা আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, যুদ্ধে নামা সহজ হলেও বের হওয়া কঠিন। ট্রাম্পের তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণার কালি শুকানোর আগেই এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব পুঁজি বাজারে ধস নামানোর বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।

Post a Comment

Previous Post Next Post