ট্রাম্পের ১০ দিনের আল্টিমেটাম কি কৌশলগত পিছু হটা না বাজারের ভয়?
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ১০ দিন স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো মানবিক উদারতা হিসেবে দেখছেন না আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বরং এর পেছনে রয়েছে তেলের বাজার রক্ষা এবং বিশ্ব অর্থনীতির গভীর হিসাব-নিকাশ। ট্রাম্পের এই পিছু হটা মূলত এক ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ও শেয়ার বাজারের সূচক ঠিক রাখার একটি সুপরিকল্পিত চাল।
অর্থনৈতিক চাপ ও ইরানের পাল্টা হুমকি: যখনই ইরান হুঁশিয়ারি দিল যে হামলা হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি করিডোর এবং পারস্য উপসাগর জ্বলবে, তখনই ট্রাম্পের সুর নরম হয়ে আসে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, এই যুদ্ধ শুধু তেহরানে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্ব ব্যবস্থাকে অচল করে দেবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজারে ধস নামার উপক্রম হওয়ায় ট্রাম্প আলোচনার জন্য সময় বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কাছে মানুষের জীবনের চেয়ে বাজারের স্থিতিশীলতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
স্থগিতাদেশের আড়ালে যুদ্ধের প্রস্তুতি: তবে এই ১০ দিনের বিরতি মানেই শান্তি নয়। মুখে স্থগিতাদেশের কথা বললেও ইসফাহান ও খোররামশহর অঞ্চলে সীমিত আকারে হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়টুকুকে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি আরও সুসংহত করা হচ্ছে। হাজার হাজার নতুন মার্কিন সেনা ও রণতরী বর্তমানে ওই অঞ্চলে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ১০ দিনের এই নীরবতা আসলে বড় কোনো সংঘাতের আগের এক ছমছমে নিস্তব্ধতা মাত্র। ইরানের হাতে থাকা ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্ডটি এখন যেকোনো পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।