ইরানের তেল ও খারগ দ্বীপ দখলের সরাসরি ঘোষণা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে ইরানের জ্বালানি সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরানে তার প্রধান লক্ষ্য হবে দেশটির তেলশিল্প দখল করা। এই পরিকল্পনাকে তিনি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে দেশটির তেল খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা চালাচ্ছে।
খারগ দ্বীপ ও সামরিক প্রস্তুতি: ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প বলেন, সেখানে কার্যকর কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই এবং মার্কিন বাহিনী খুব সহজেই এটি কবজায় নিতে পারবে। বর্তমানে পেন্টাগন এই অঞ্চলে ১০ হাজার প্রশিক্ষিত সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে, যার বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে। ট্রাম্পের মতে, প্রয়োজনে মার্কিন বাহিনীকে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করতে হতে পারে।
চুক্তি বনাম হামলার আল্টিমেটাম: ট্রাম্প ইরানকে একটি নির্দিষ্ট চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। অন্যথায় দেশটির জ্বালানি খাতে ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত তারা ইরানের ১৩ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে বোমা মেরেছেন এবং আরও ৩ হাজার লক্ষ্যবস্তু তাদের তালিকায় রয়েছে। তবে ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের নতুন ‘পেশাদার’ নেতৃত্বের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।
তেল বাজার ও বর্তমান পরিস্থিতি: এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। একদিকে জর্ডান ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা এবং অন্যদিকে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ট্রাম্পের এই সরাসরি দখলের হুমকি বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক চরম বার্তারূপে আবির্ভূত হয়েছে।