মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো ধরনের হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পানি শোধনাগারসহ সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ‘অপরিবর্তনীয়ভাবে ধ্বংস’ করার কঠোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। রোববার (২২ মার্চ) ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্কিত প্রতিটি স্থাপনা এখন তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু।
ট্রাম্পের আল্টিমেটাম ও ইরানের পাল্টা জবাব: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। এর জবাবে ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ জানিয়েছে, তাদের স্থাপনায় আঘাত এলে হরমুজ প্রণালি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত এই জলপথ আর কোনো দেশের জন্যই উন্মুক্ত করা হবে না।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ: বর্তমানে হরমুজ প্রণালি আংশিক বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে এবং ইউরোপে গ্যাসের দাম গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও চীন ও ভারতের মতো দেশগুলোকে সীমিত সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তবে মোট জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব সময়ের তুলনায় মাত্র ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছে যে, বিদ্যুৎ ও পানির মতো মৌলিক সেবা দানকারী অবকাঠামোতে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এটি ভয়াবহ ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই সংঘাত এখন কেবল সামরিক নয়, বরং বৈশ্বিক মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকে মোড় নিচ্ছে।