শান্তি আলোচনার ভেন্যু কি ইসলামাবাদ? ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে পাকিস্তানের বড় উদ্যোগ

 

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা: সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় পাকিস্তান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার ঘোষণার পর এখন বড় প্রশ্ন—কোথায় বসছে এই কাঙ্ক্ষিত শান্তি আলোচনার আসর? ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি করলেও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তবে পর্দার আড়ালে তুরস্ক, রাশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তান এখন এই সংঘাত নিরসনে প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

ভেন্যু হিসেবে ইসলামাবাদের সম্ভাবনা: পূর্বে ওমান ও কাতার মধ্যস্থতা করলেও বর্তমানে পাকিস্তানকেই সবচেয়ে নিরাপদ ও নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। 'ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সরকার চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্প প্রশাসন ও ইরানি প্রতিনিধিদের বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদকে প্রস্তাব করেছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যথাক্রমে ট্রাম্প ও ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। পাকিস্তানে কোনো মার্কিন ঘাঁটি না থাকা এবং তেহরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক দেশটিকে একটি শক্তিশালী সালিশকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থান: যদিও ইরান সরাসরি আলোচনার দাবিকে ‘ফেক নিউজ’ বা বাজার নিয়ন্ত্রণের কৌশল বলছে, তবে তারা বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। বিশ্লেষক সানাম ভাকিল মনে করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলার হুমকির কারণেই ট্রাম্প হয়তো আপাতত পিছু হটেছেন। মিশর ও তুরস্কও এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থেকে বার্তা আদান-প্রদান করছে। তবে এটি পূর্ণাঙ্গ কোনো শান্তি চুক্তি কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। আপাতত ৫ দিনের হামলা স্থগিতের ঘোষণায় বিশ্ববাসী ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে—সেখানেই কি তবে নির্ধারিত হবে মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য?

Post a Comment

Previous Post Next Post